কোলনোস্কপি (Colonoscopy) হলো একটি পরীক্ষার পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সরু, নমনীয় ক্যামেরাযুক্ত যন্ত্র দিয়ে মলদ্বার ও বৃহদান্তরের ভেতরের অংশ সরাসরি দেখা হয়। এর মাধ্যমে অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনে একই সময়ে চিকিৎসামূলক কিছু কাজ করা যায়।
* কোন কোন কারণে কোলনোস্কপি প্রয়োজন হতে পারে?
১. পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে:
মলদ্বার দিয়ে রক্তপাতের কারণ নির্ণয়ে—বিশেষ করে রক্তপাতের উৎস স্পষ্ট না হলে—কোলনোস্কপি করা হতে পারে। কারণ হতে পারে পলিপ, প্রদাহ, রক্তনালির সমস্যা বা ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগ।
২. কোলন ক্যানসার ও পলিপের স্ক্রিনিং:
উপসর্গ না থাকলেও নির্দিষ্ট বয়সে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি যাচাইয়ের জন্য করা হয়। কোলনের অনেক ক্যানসার পলিপ থেকে তৈরি হয়; কোলনোস্কপিতে পলিপ শনাক্ত করে অপসারণ করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে কিছু ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
**সাধারণ ঝুঁকির ক্ষেত্রে:
অনেক আন্তর্জাতিক গাইডলাইনে ৪৫ বছর বয়স থেকে স্ক্রিনিং শুরু করার কথা বলা হয়। তবে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে।
৩. পলিপ বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শনাক্ত ও অপসারণ:
অন্ত্রের ভেতরে পলিপ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক অংশ দেখা গেলে কোলনোস্কপির মাধ্যমে তা অপসারণ করা যায়। অপসারিত টিস্যু পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে ক্যানসার বা ক্যানসার-পূর্ব পরিবর্তন আছে কি না দেখা হয়।
৪. দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা বা মলত্যাগের পরিবর্তন:
যেমন—
দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া
নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন
বারবার পেটব্যথা
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
এসবের কারণ অনুসন্ধানে চিকিৎসক কোলনোস্কপি বিবেচনা করতে পারেন।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া
এসবের কারণ অনুসন্ধানে চিকিৎসক কোলনোস্কপি বিবেচনা করতে পারেন।
৫. অজানা কারণে আয়রন-ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা:
বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে, অন্ত্র থেকে অল্প অল্প রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না বা অন্য কোনো রোগ আছে কি না তা খুঁজতে কোলনোস্কপি প্রয়োজন হতে পারে।
৬. পূর্বে পলিপ, কোলন ক্যানসার বা প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ থাকলে
আগের রোগের পুনরাবৃত্তি, নতুন পলিপ বা রোগের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট সময় পর ফলো-আপ কোলনোস্কপি করা হয়। সময়সূচি আগের রিপোর্ট, পলিপের ধরন ও রোগের ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে।
কোলনোস্কপিতে কী কী করা যায়?
